ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
৮৫

১০ বছর পর মা-ছেলের দেখা, এ যেন সিনেমাটিক গল্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

নব্বই দশকের অনেক বাংলা সিনেমায় বাড়ি থেকে পালিয়ে, মেলা থেকে হারিয়ে যেত ছোট্ট নায়ক চরিত্র। অবশেষে নানা প্রতিকূল বা অনুকূল পরিবেশে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে গান বা কোনে ক্ষত চিহ্নের সূত্র ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে নায়কের পুনরায় সাক্ষাৎ ঘটতো। তবে বাস্তব জীবনে এমন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ফেসবুক লাইভের কল্যাণে সেই বাস্তব গল্পের চরিত্র শফিকুল ইসলাম। দীর্ঘ ১০ বছর পর বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে তার। এ যেন পুরোই সিনেমাটিক গল্প। 

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের ধূলিহর গ্রামের শহীদ মিয়া ও সুফিয়া খাতুন দম্পতির ছেলে শফিকুল। মাত্র সাত বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ছোট্ট শফিক। কিশোরগঞ্জে ঢাকাগামী একটি বাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। আর তার সেই ঘুম ভাঙে ঢাকার কোলাহল যুক্ত পরিবেশের শব্দে। অচেনা ঢাকায় অসহায় শফিক কেঁদে কেঁদে নাস্তানাবুদ।

ওই সময় পথচারীদের জিজ্ঞেস করা প্রশ্নে নিজের ও গ্রামের নাম ছাড়া কোনো কিছুই বলতে পারেননি তিনি। এতে সবাই হতাশ হয়ে তাকে ঢাকার রাজপথে রেখে চলে যান। কিন্তু শফিককে রেখে যেতে পারেননি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুরানগাঁওয়ের ব্যবসায়ী কাবুল মিয়া। অসহায় শফিককে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। তার আট মেয়ে ও দুই ছেলের সঙ্গে শফিককে লালন পালন করতে থাকেন এ ব্যবসায়ী। এখন শফিকের বয়স ১৭ বছর। গল্পটা এভাবেই চলতে পারতো। তবে গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ফেসবুকের একটি লাইভ।  

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের শ্রীগাঁওয়ের সমাজকর্মী শেখ জসিম শফিককে নিয়ে ফেসবুকে লাইভে আসেন। লাইভে এসে শফিকের বিস্তারিত ঘটনা তুলেন ধরেন এ সমাজকর্মী। ওই লাইভে নিজের বাবা-মার সন্ধান চান শফিক। এতে লাইভের ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভাইরাল লাইভটির খবর শফিকের বাবা-মার কাছে আসে। ভিডিওটি দেখে নিজের সন্তানকে শনাক্ত করে কেঁদে ফেলেন মা সুফিয়া খাতুন। পরে ছেলের পালক বাবা মৌলভীবাজারের পুরানগাঁওয়ের ব্যবসায়ী কাবুল মিয়ার বাড়িতে হাজির হন শফিকের বাবা-মা।

কাবুল মিয়া বলেন, শফিককে নিজের ছেলের মতো বড় করেছি। সে তার আসল বাবা-মাকে খোঁজে পেয়েছে। খারাপ লাগলেও তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আনন্দ পাচ্ছি।

শফিক জানান, তিনি শুধু গ্রামের নাম ধূলিহর বলতে পারতেন। আর কিছুই জানতেন না। এখন বাবা-মায়ের সন্ধান পেয়ে তার ভালো লাগছে। কিন্তু পালক বাবার জন্য তার খারাপ লাগছে। কারণ তিনি সবার চেয়ে তাকে বেশি আদর করতেন।

শফিকের বাবা শহীদ মিয়া ও মা সুফিয়া খাতুন বলেন, নিজের হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় আল্লাহর দরবারে হাজারো শুকরিয়া জানাচ্ছি।