ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৬ ১৪২৬

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪১

৯১

হাজার কোটি বছরের তেলাপোকার সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২০  

একটি তেলাপোকার বয়স হাজার বছর। পৃথিবীতে এখনো এই কিট পতঙ্গটি অবিকৃতি অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ ডায়নোসর যুগের তেলাপোকা এটি। তবে একটি নয় সমবয়সী দুটি তেলাপোকার সন্ধান মিলেছে।

মিয়ানমারের একটি গুহায় এমনই দুটি প্রাচীন প্রজাতির তেলাপোকার সন্ধান পেয়েছে বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে এটি অ্যাম্বারে (জীবশ্মযুক্ত রত্ন পাথর) সংরক্ষিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন তেলাপোকাদ্বয়ের নাম রেখেছে ‘ক্রেনোকটিকোলা সাভাদ্বা’ ও ‘মুলেরিব্লাতিনা বোয়াঙ্গি’। 

এই দুটি তেলাপোকা প্রায় ৯৯ মিলিয়ন (৯৯০ লাখ) বছর পূর্ব থেকে একসঙ্গে রয়েছে। অর্থাৎ ডায়নোসর আমল থেকেই তারা পৃথিবীতে বাস করছে। ফিজ.অর্গ এর তথ্যানুসারে, মিয়ানমারের হুকাওং উপত্যকার একটি খনি থেকে প্রাপ্ত অ্যাম্বারের মধ্যে অবিকৃত অবস্থায় তেলাপোকাগুলো পাওয়া গিয়েছে। 

 

অ্যাম্বারে বন্দী পোকামাকড়

অ্যাম্বারে বন্দী পোকামাকড়

অ্যাম্বার কী? এটি হচ্ছে তৈলস্ফটিক। যা গাছের ক্ষতস্থান হতে নিঃসৃত হয়। এটি এক প্রকার রেজিন যা ক্ষতস্থানের সুরক্ষার জন্য গাছ হতে নিঃসৃত হয়। বাতাসের সংস্পর্শে ক্রমশ এই রেজিন পলিমারে পরিণত হয়ে জমাট বেধে শক্ত আকার ধারণ করে। তরল অবস্থায় থাকার সময় অনেক ক্ষেত্রে নানাবিধ পোকামাকড় অ্যাম্বারের সংস্পর্শে এসে এর মধ্যে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। 

ঠিক যেমনটি ঘটেছে এই তেলাপোকাদ্বয়ের ক্ষেত্রেও। এই অবস্থাতেই অ্যাম্বার কঠিন হয়ে গেলেও সেই তেলাপোকা দুটি এর ভিতরে নিশ্চল অবস্থায় ফসিলে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় একসময় গাছের মৃত্যু হলেও রেজিনের ক্ষয় হয় না বরং অবিকৃত থেকে ক্রমশ আরো কঠিন পদার্থে রূপান্তরিত হয়। 

এই অবস্থায় অ্যাম্বারে আটকে পড়া পোকামাকড় বা অন্যান্য বস্তু থেকে লাখো কিংবা কোটি বছরের পুরনো পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে পোকামাকড়ের ফসিল থেকে তাদের উদ্ভব এবং বিবর্তনীয় পরিবর্তন সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানা যায়। তাছাড়া রত্ন হিসেবে অলঙ্কারেও অ্যাম্বার ব্যবহৃত হয়। এগুলো দেখতে বেশ চকচকে হয়।

 

তেলাপোকা

তেলাপোকা

গবেষণার তথ্যানুসারে, মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখা গেছে গুহায় পাওয়া তেলাপোকাদ্বয়ের সঙ্গে অন্যান্য তেলাপোকার মিল রয়েছে। যেমন তাদের ছোট পাখনা, দেহ, চোখ এমনকি পা’সহ শারীরিক বৈশিষ্ট্য একই রকম। এমনকি এদের মাথাতেও অস্বাভাবিক বড় আকৃতির অ্যান্টেনা রয়েছে। তবে তেলাপোকাগুলো ঠিক কীভাবে অ্যাম্বারে রূপান্তরিত হয়েছে তা বিজ্ঞানীরা পুরোপুরিভাবে এখনো নিশ্চিত নয়।

উনবিংশ শতাব্দী থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা, তেলাপোকা অত্যন্ত প্রাচীনতম এক কীট। তেলাপোকারা বহু পুরনো দলভুক্ত পোকা, এদের প্রায় ৩২০ মিলিয়ন বছর পুরনো কার্বনিফেরাস যুগেও পাওয়া গিয়েছিল। তেলাপোকার পূর্বপুরুষদের মধ্যে বর্তমান তেলাপোকায় বিদ্যমান অভ্যন্তরিন অভিপোসিটর ছিল না। 

এদের যততত্র দেখা যায় এবং তারা খুব কঠিন ধরনের পোকা। এরা যে কোনো পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। যেমন মেরু অঞ্চলের ঠাণ্ডা থেকে শুরু করে ট্রপিকালের তীব্র উষ্ণ পরিবেশ। উষ্ণ অঞ্চলের তেলাপোকারা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের চেয়ে আকারে বড় হয়।

সূত্র: ফক্সনিউজ/ফিজ.অর্গ

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর