ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৬ ১৪২৬

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪১

৭৮

লাখ টাকার মুরগির রক্ত পানেই মিলবে সুস্থতা!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

এক দুর্লভ প্রজাতির মোরগ। যার শরীরের মাংস এমনকি ডিমও কালো রঙের। ভাবা যায়! আয়াম চেমানি এক ধরনের দুর্লভ প্রজাতির মোরগ। এরকম সর্বাঙ্গ কালো আর কোনো পশু-পাখি নেই।  

ইন্দোনেশিয়ান ভাষা আয়াম অর্থ মুরগি আর চেমানি অর্থ সম্পূর্ণ কালো। এ মোরগের পালক যে শুধু কালো তা কিন্তু নয়। আয়াম চেমানির রক্ত বাদে চোখ, ঠোঁট, চামড়া, মাংস, গিলা, কলিজাসহ দেহের আর সবই কালো। তবে সূর্যের আলোতে এর পালক বেগুনি-সবুজ থেকে বেগুনি রঙের দেখায়। 

 

এই মোরগের সব কালো

এই মোরগের সব কালো

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, আয়াম চেমানি হলো যাদুর মোরগ বা মুরগি। তাই সেখানকার মানুষরা এর মাংস খুব কমই খান। দেবতাকে উৎসর্গ করেন আয়াম চেমানি। এমনকি উৎপত্তির পর বহু শতাব্দী ধরে এটি শুধু ধর্মীয় কাজেই ব্যবহার করা হয়। আর এমন বিশ্বাসের কারণেই আয়াম চেমানির দাম এতোটা বেশি।

বাংলাদেশি টাকায় এর দাম প্রায় দুই লাখ টাকা! তবে তা শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়া থেকে কিনলেই পাবেন এ দামে পাবেন। আর মার্কিন মুলুক থেকে কিনতে গেলে গুণতে হবে এর দ্বিগুন দাম! অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় সেই খরচ গিয়ে দাঁড়াবে চার লাখ টাকায়! এর দুই থেকে তিন দিনের একেকটি ছানা বিক্রি হয় ১৯৯ ডলারে।  

 

মোরগের শরীর থেকে রক্ত বের করা হচ্ছে

মোরগের শরীর থেকে রক্ত বের করা হচ্ছে

আয়াম চেমানির উৎপত্তিস্থল

কালো প্রজাতির এই মুরগির উৎপত্তিস্থল ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ। তবে খোদ ইন্দোনেশিয়াতেই এর খোঁজ পাওয়া মুশকিল। বর্তমানে সে দেশের হাতে গোনা কিছু খামারি এই মোরগ পালন করে থাকেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নৃতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ ভেরোনিকা কুসুমারায়তি জানান, দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে সেখানকার লোকেরা সমুদ্রের নৌকাগুলোতে সাইরেন হিসেবে ব্যবহার করতেন এই মোরগকে। 

 

আয়াম চেমানি

আয়াম চেমানি

এমনকি এর রক্ত তারা নানা রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করত। ১৯৯০ এর দশকে মোটামুটিভাবে মোরগ প্রেমীদের নজরে আসে। ব্রিডার জ্যান স্টেভারিঙ্ক নামে একজন ডাচম্যান ১৯৯৮ সালে প্রথম এই মোরগ ইউরোপে আনেন।  বর্তমানে, এই মুরগির জাতটি নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানি, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রে পাওয়া যায়। বর্ণবাদের কারণে ২০১৪ সালে, বর্তমান ইউএসডিএ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাখি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আইয়াম চেমানি প্রথম আইনত যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা হয়েছিল।    

 

কালো মাংস

কালো মাংস

আয়াম চেমানির প্রজাতির মুরগি বছরে ডিম পাড়ে প্রায় ৮০টি। এর ডিমের রং কালো আর ভেতরের অংশ অনেকটা ক্রিম রঙের। একেকটি ডিম গড়ে ৪৫ গ্রামের মতো হয়। একাধারে ২০ থেকে ৩০ টি ডিম দেয়ার পর কিছুদিন ডিম দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর আবার ডিম দিতে থাকে। একেকটি মোরগের ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি আর মুরগি দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা খুবই শান্ত প্রকৃতির। আয়াম চেমানি প্রজাতির মুরগির শরীরে মিউট্যান্ট ফাইব্রোমেল্যানাস্টিক জিন রয়েছে। ফলে এর ত্বক এবং টিস্যুগুলোকে কালো দেখা যায়। 

 

বিশ্ব জুড়ে এর চাহিদা ব্যাপক

বিশ্ব জুড়ে এর চাহিদা ব্যাপক

ভাবছেন এই কালো রঙের মাংসের স্বাদ না জানি কেমন হবে! তাহলে বলব, শুধু ঘ্রাণ শুকেই নিরামিষভোজীরা আমিষের লাইনে চলে আসবেন। এশিয়ায় আয়াম চেমানি বেশি জনপ্রিয় এর মাংসের জন্য। কালো মাংসে কোনো ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। এর মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। বিশেষ করে সন্তান জন্মদানের আগে ও পরে এর মাংস খাওয়া বেশি উপকারী।

সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর