ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

১৯

রাসূল (সা.) এর বাণী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৯  

রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নবী। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল।’ (সহিহ বুখারী)।

দুনিয়াতে যারা আল্লাহর সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথে চলবে, পরকালে তারাই জান্নাতে যাবে। তারাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। 

আমরা তাঁর উম্মত বা অনুসারী দল। আমরা তাঁর দেখানো পথে চলি। সঠিক পথ পাবার জন্যে তিনি আমাদের কাছে দু’টি জিনিস রেখে গেছেন। একটি হলো আল্লাহর কুরআন। আর অপরটি হলো তাঁর সুন্নত বা সুন্নাহ।

নবীর (সা.) সুন্নাহ সম্পর্কে জানা যায় হাদিস থেকে। হাদিসের অনেকগুলো বড় বড় গ্রন্থ আছে। নবীর বাণীকে হাদিস বলে। নবীর কাজ কর্ম এবং চরিত্রের বর্ণনাকে ও হাদিস বলে।

নবীর সমর্থন এবং আদেশ নিষেধের বর্ণনাকেও হাদিস বলে। ইসলামের সত্য ও সঠিক পথকে জানাবার জন্যে আমাদেরকে আল্লাহর বাণী কোরআন মজিদকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।

ঠিক তেমনি আমাদেরকে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হাদিস পড়তে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে।
তবেই মহান আল্লাহ খুশী হবেন আমাদের প্রতি। আমরা হতে পারবো সত্যিকার মুসলিম।

সে জন্যেই আমরা এখানে সংকলন করেছি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেকগুলো হাদিস। 

এসো আমরা সবাই প্রিয় নবীর এই বাণীগুলো পড়ি এবং মেনে চলি-

৪র্থ পর্বের পর থেকে...

(২১৪) আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহ.) আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হারিস ইবনু হিশাম (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার প্রতি ওহী কীভাবে আসে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোনো সময় তা ঘন্টাধ্বনির ন্যায় আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার ওপর সবচাইতে কষ্টদায়ক হয় এবং তা সমাপ্ত হতেই ফেরেশতা যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই, আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি। আয়িশা (রা.) বলেন, আমি প্রচন্ড শীতের দিনে ওহী নাজিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওহী শেষ হলেই তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।

( ২১৫) কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহ.) ইবনু ‘ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেন, গাছপালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা ঝরে না। আর তা মুসলিমের উপমা। তোমরা আমাকে বলো, ‘সেটি কি গাছ?’ রাবী বলেন, তখন লোকেরা জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ-পালার নাম চিন্তা করতে লাগল। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমার মনে হলো, সেটা হবে খেজুর গাছ।’ কিন্তু আমি তা বলতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তারপর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, ‘ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমাদের বলে দিন সেটি কি গাছ? তিনি বললেন, তা হলো খেজুর গাছ।’

(২১৬) বোখারী শরিফ হাদিস ১। হুমায়দী (রহ.) আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) থেকে বর্ণিত, আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক কাজ নিয়তের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে- সেই উদ্দেশ্যেই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য।

(২১৭) মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহ.) ইবনু আব্বাস (রহ.) থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহর বাণী: তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা তার সঙ্গে নাড়বেন না’ (৭৫:১৬) এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী নাজিলের সময় তা আয়ত্ত করতে বেশ কষ্ট স্বীকার করতেন এবং প্রায়ই তিনি তাঁর উভয় ঠোঁট নাড়াতেন। ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, আমি তোমাকে দেখানোর জন্য ঠোঁট দু’টি নাড়ছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাড়াতেন।’ সা’ঈদ (রহ.) (তার শাগরিদদের) বললেন, আমি ইবনু’আব্বাস (রা.)-কে যেভাবে তার ঠোঁট দু’টি নাড়াতে দেখেছি, সেভাবেই আমার ঠোঁট দু’টি নাড়াচ্ছি।’ এই বলে তিনি তাঁর ঠোঁট দু’টি নাড়ালেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা নাজিল করলেন, ‘তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা তার সঙ্গে নাড়াবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।’ (৭৫:১৬-১৮) ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন এর অর্থ হলো, আপনার অন্তরে তা সংরক্ষণ করা এবং আপনার দ্বারা তা পাঠ করানো। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন (৭৫:১৯) ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই (৭৫:১৯)।’ অর্থাৎ আপনি তা পাঠ করবেন এটাও আমার দায়িত্ব। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ সহকারে কেবল শুনতেন। জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলে তিনি যেমন পড়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ঠিক তেমনি পড়তেন।

(২১৮) বিশ্বনবী (সা.)) বললেন, তোমরা নিজেদেরকে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা কর, যদিও তা সম্ভব হয় একটি মাত্র খুরমার অর্ধেক অংশ কিংবা তাও যদি না থাকে তাহলে সামান্য পানি অন্য রোজাদারকে ইফতার হিসেবে আপ্যায়নের মাধ্যমে।

(২১৯) তোমরা অনুমান বা সন্দেহ পোষন হতে সবধান! থাকো। কেননা অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা।

(২২০) অহংকার, প্রতারণা ও ঋণমুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা বেহেশতবাসী হবার একটি শর্ত।

(২২১) বিশ্বস্ত সত্যবাদী মুসলমান ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহীদগণের সঙ্গী হবে।

(২২২) তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ে অধিক শপথ করা হতে সাবধান থাকবে। কেননা এতে লাভ হলেও পরে তা বিনাশ ডেকে আনে।

(২২৩) ওই নারী ও পুরুষ অভিশপ্ত যে পুরুষ নারীর এবং যে নারী পুরুষের বেশ-ভুষা ধারণ করে।

(২২৪) দীর্ঘ দিন অনুপস্থিতির পর তোমাদের কেউ যেন রাতের অন্ধকারে স্বীয় পরিবার পরিজনদেও কাছে হাজির না হয়।

(২২৫) তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ ব্যতীত মৃত্যুবরণ না করে।

(২২৬) লোভ আলেমদের অন্তর থেকে এলেমকে বের করে দেয়।

(২২৭) তোমরা কবরসমূহের জেয়ারত করবে, কেননা তা মৃত্যুকে স্বরণ করিয়ে দেয়।

(২২৮) দাতা ব্যক্তি আল্লাহ, বেহেশতের ও মানুষের নিকটে অথচ দোজখ হতে দূরে।

(২২৯) কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ হতেও দূরত্বে, বেহেস্ত হতেও দূরত্বে, অথচ দোজখের নিকটে।

(২৩০) আজান একামতের মাঝখানে দোয়া ফেরত দেয়া হয় না।

(২৩১) প্রত্যেক জিনিসেরই একটা মাজন রয়েছে, আর অন্তরের মাজন হলো আল্লাহর জিকির।

(২৩২) আনন্দ তার জন্য যার আমলনামায় ইস্তেগাফার বেশি বেশি পাওয়া যায়।

(২৩৩) প্রতারক, কৃপণ এবং যে ব্যক্তি দান করে খোটা দেয়, সে বেহেশত্ প্রবেশ করবে না।

(২৩৪) প্রত্যেক ভাল কাজই একেকটি দান।

(২৩৫) আল্লাহর নিকট দুনিয়ার স্থানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় মসজিদসমূহ এবং সবচেয়ে ঘৃণ্য হলো বাজারসমূহ।

(২৩৬) অবস্থাপন্ন ব্যক্তির জন্য ও শক্তিমান পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির জন্য জাকাত লওয়া হালাল নয়।

(২৩৭) প্রত্যেক জিনিসেরই জাকাত রয়েছে, আর শরীরের জাকাত হলো রোজা।

(২৩৮) সকল কাজের শ্রেষ্ঠ কাজ আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসা আর আল্লাহর ওয়াস্তেই শত্রুতা করা।

(২৩৯) রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন কবরে চুনকাম করতে, কবরের ওপর ঘর তুলতে এবং তার ওপর বসতে।

(২৪০) মজলুমের বদ দোয়া থেকে বেঁচে থাক, কেননা মজলুমের বদ দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো আড়াল নেই।

(২৪১) প্রত্যেক আদম সন্তানই অপরাধী আর তন্মধ্যে উত্তম তারাই যারা তওবা করে।

(২৪২) আল্লাহ আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি উপকারী, জ্ঞান, কবুল হওয়ার মত আমল ও হালাল রিজিক।

(২৪৩) সংরক্ষিত উত্তম সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।

(২৪৪) তিনটি দোয়া কবুল হয় তাতে সন্দেহ নেই। পিতা-মাতার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া ও মজলুমের দোয়া।

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ