ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭

  • || ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
৮২

রহস্যময় শিশু! যেখানে যায় সেখানেই আগুন লাগে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২০  

শিশুরা স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ দান। তাদের নিষ্পাপ হাসি অনায়াসেই সবার মন জয় করে নেয়। এক কথায় শিশুদের মধ্যেই মা-বাবার সব সুখ নিহিত থাকে। তবে আজ এমন এক শিশুর গল্প নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনাকে অবাক করবে!

একটি শিশুর কান্না করা পেইন্টিং। দেখলে মনে হবে যে শিশুটি পৃথিবীর সবচেয়ে ‘ইনোসেন্ট’ বা নির্দোষ। রাজ্যের বিষণ্ণতা ও অবলীলায় তাকিয়ে থাকা ছেলেটিকে দেখলে যে কারো মায়া জন্মাবে। কিন্তু প্রকৃতির কী নির্মম পরিহাস! এ শিশুটিকে নাকি মনে করা হয় অভিশপ্ত, পিশাচ। সে যেখানে যায় সেখানেই আগুন লাগে। চোখের সামনে আগুনে মাকে ভস্মিভূত হতে দেখেছে। এরপর কান্নাই যেন তার নিত্য সঙ্গী। তার চেয়ে অভাগা আর কে আছে?

১৯৮৮ সালের ঘটনা। ঘটনাস্থল ইংল্যান্ডের হ্যাসোয়েল। সেখানে এমোস পরিবারের বাড়িতে হঠাৎ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রহস্যময় ওই অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সাজানো-গোছানো বাড়িটি।

 

ডন বনিলো

ডন বনিলো

ফায়ার ব্রিগেডের সদস্য ও উদ্ধারকর্মীরা যখন আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ সরাতে শুরু করেন তখন তারা একটি ফ্রেমে বাঁধানো পোট্রেটের সন্ধান পান। এই পোট্রেটটি ছিল কান্নারত একটি বালকের। বালকটি ছিল খুব সুন্দর, যার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। স্বভাবতই শিশুটির চেহারা ছিল বিষণ্ণ। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল আগুনের দোর্দণ্ড আগ্রাসনে বাড়ির সবকিছু যেখানে পুড়ে ছাই, সেখানে পোট্রেটটি ছিল অক্ষত। এতে উদ্ধারকর্মীরা ভড়কে গিয়েছিলেন।

তবে সেবারের ঘটনা ওই অবাক হয়ে যাওয়া পর্যন্তই। কে জানত এর সঙ্গে জড়িত আরো অনেক রহস্য তখনো ছিল বাকি! এরপর আরো একবার বিস্ময়ের জন্ম দেয় পোট্রেটটি। এবারের ঘটনা ব্র্যাডফোর্ড শহরের। এবারও অগ্নিকাণ্ড। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে আবারো এক কান্নারত ছেলের ছবি পাওয়া গেল।

এবারও ছবিটি ছিল ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে একেবারেই অক্ষত। ঘটনাটি ফলাও করে ছাপা হয় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে। সংবাদপত্রগুলো এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য জেঁকে ধরে ইয়োর্কশায়ারের তৎকালীন ফায়ার ব্রিগেড প্রধানকে। প্রথমে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তী সময়ে তিনি একটি বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, পরপর বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে একই ছবি অক্ষত পেয়েছেন দমকল কর্মীরা। এই স্বীকারোক্তির পর সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল ছবিটি অশুভ কিনা। এটি ভূত কিংবা প্রেতাত্মা কি না? এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

ডন বনিলো

ডন বনিলো

১৯৯৮ সালে ডাবলিনে এক বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড হয়। আর সেখানেও এই একই ছবি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সমস্যা হলো, এই অভিশপ্ত ছবির ছেলেটির পরিচয় বা ছবিটি কে এঁকেছিলেন, সে ব্যাপারে কিছুই জানা যাচ্ছিল না।

ডাবলিনের ঘটনার তিন বছর আগে ১৯৯৫ সালে ডেভন শহরের একজন স্কুলশিক্ষক, যিনি একইসঙ্গে প্রখ্যাত একজন গবেষক জর্জ ম্যালোরি দাবি করেন, তিনি অবশেষে ছবিটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

তিনি জানান, একজন বৃদ্ধ স্প্যানিশ পোস্টকার্ড শিল্পী ফ্র্যাঙ্কট সেভিল এই ছবিটি এঁকেছিলেন। তিনি মাদ্রিদে থাকতেন। ১৯৬৯ সালে ওই শিল্পী মাদ্রিদের রাস্তায় ছবির ছোট ছেলেটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখতে পান। ছেলেটি কখনই কথা বলত না। তার চোখে থাকত রাজ্যের বিষণ্ণতা। সেভিল এ ছেলেটির ছবি আঁকেন।

এক পাদ্রী ছেলেটিকে চিনতে পারেন। তিনি বলেন, ছেলেটির নাম ডন বনিলো, যে নিজের চোখে তার বাবা-মাকে পুড়ে ছাই হতে দেখেছিল। পাদ্রী আরো বলেন, ছেলেটিকে এক জায়গায় বেশি দিন যেন থাকতে দেয়া না হয়। কারণ যেখানেই সে কিছুদিন অবস্থান করে সেখানে রহস্যজনকভাবে আগুন লেগে যায়। এজন্য গ্রামবাসী ছেলেটিকে পিশাচ নামে সম্বোধন করত।

ছেলেটির পরিচয় সম্পর্কে ধারণা করা গেলেও ইউরোপজুড়ে অগ্নিকাণ্ড আর তার সঙ্গে অশুভ এই ছবি উদ্ধারের কোনো ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি।

সূত্র : ডেইলি মেইল

ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর