ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪২৭

  • || ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
৩৬৩

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

‘যাব না’ স্লোগান দিলো রোহিঙ্গারা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮  

প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য কিছু রোহিঙ্গাকে টেকনাফের উনচিপাং এলাকার ২২ নম্বর ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা ‘ন যাইয়ুম, ন যাইয়ুম’ (যাব না, যাব না) স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তৈরি করা জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় দফা বৈঠকে ঠিক হয় যে, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে অস্থায়ী ক্যাম্পে ১৫০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ দুটি অস্থায়ী প্রত্যাবাসন ক্যাম্পও তৈরি করেছে।

১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পয়েন্ট দিয়ে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে ৩০ রোহিঙ্গা পরিবারের ১৫০ জন সদস্যকে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশে ও মিয়ানমারে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে অনানুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম।

বিবিসি বাংলার খবরে জানানো হয়, আগামী তিন দিনে প্রত্যাবাসনের জন্য ২৯৮ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের জানানো হয় যে, তাদের জন্য অন্তত তিন দিনের খাবার ও জরুরি প্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ বাসে করে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

পরে তাদের বাসে ওঠার আহ্বান জানালে ‘যাব না’ বলে স্লোগান দেওয়া শুরু করে তারা। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় কয়েকজনের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে তারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।

প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য যেসব পরিবার তালিকাভুক্ত, তাদের অধিকাংশের ঘরই তালাবন্ধ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত হওয়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা ঘর ছেড়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসির সাংবাদিক জানিয়েছেন, শিবিরগুলোতে প্রত্যাবাসিত হওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রথম দফায় দুই হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য শরণার্থী শিবিরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, জাতিসংঘের সুপারিশ অনুযায়ী অতিসত্বর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গাদের নিজেদের ইচ্ছায় হবে বলা হলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একজন শরণার্থী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেন, ‘এই প্রত্যাবাসন জোরপূর্বক এবং আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। ক্যাম্পের একটি মানুষও ফিরে যেতে চায় না।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী অধিকারবিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো শুরু করলে বাংলাদেশ খুবই দ্রুত আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাবে। শরণার্থী শিবিরে সেনা মোতায়েন করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, ভীত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় প্রত্যাবাসনে আগ্রহী নয়।’

অন্যদিকে বিবিসির মিয়ানমারের সংবাদদাতা স ইয়ান নাইং জানান, প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে তংপিয়ং লেটওয়া এলাকার অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান করছেন মিয়ানমারের অভিবাসন কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও চিকিৎসকরা। তারা প্রতিদিন শতাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর