ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ১৬ ১৪২৬

  • || ০৪ রজব ১৪৪১

১২৫

মেঘনার ভাঙনে বিলীনের পথে নাসিরনগরের চাতলপাড় বাজার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০১৯  

মাস খানেক আগেও নদী ভাঙনে অন্যের ক্ষতি নিয়ে গলা ফাটিয়েছেন সাদেক মিয়া। এখন কথা বলছেন নিজের জন্য। তার এক শতকের দোকান আর ভিটা মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। সাদেক মিয়া এখন দিশেহারা। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান প্রধানমন্ত্রীর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় চকবাজারে সাদেক মিয়ার ওয়ার্কশপের দোকান ছিল। এটি তিনি ভাড়া দিয়ে রেখেছিলেন। ভাঙন কাছাকাছি চলে আসায় দোকান ঘরটি তিনি সরিয়ে নিয়েছেন। এখন ভিটা মাটির বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে সড়ক পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব নাসিরনগরের। সেখান থেকে নৌকায় করে চাতলপাড় পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে ওই বাজারের ভাঙনের দৃশ্য চোখে পড়ে। ঘেমনার ভাঙনের মুখে বাজারটি এখন প্রায় বিলীনের পথে। 

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে যত দূর চোখ যায় সেখানে অন্তত অর্ধশত কাঁচা-পাকা ভবনের অর্ধেকই নদীতে চলে গেছে। স্থানীয়রা জানালেন, আরো শতাধিক ভবন আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে আছে আরো অর্ধশত ভবন।
 
ভাঙন বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, ওপারে হাওড়ের ওপর দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্ট্রগ্রাম উপজেলায় সড়ক নির্মাণ, চক বাজারের অনতিদূরে চর জেগে ওঠা এবং একটি ইটভাটার কারণে তীব্র স্রোতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাজারটি ঘুরে ভাঙনরোধের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। 

স্থানীয়রা আরো জানান, ভিটা হারানো অনেকেই নিঃস্ব হতে চলেছেন। দোকান ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হওয়ায় দুশ্চিন্তায় এস কে শংকর, চিত্ত রায়, জিন্নত আলী, গনেশ রায় মারা গেছেন। বাজারটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ এ বাজারে এখন কেবলই স্তব্ধতা। 
 
কার্তিক রায় নামে এক দোকানী বলেন, আমার দোকানের সামনের কয়েকটি দোকান আগেই বিলীন হয়ে গেছে। আমার দোকানটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য বাজারটি ঘুরে ভাঙনরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিনয় রায় বলেন, ইতোমধ্যেই এক থেকে দেড় শ দোকান ও বসতভিটা মেঘনা নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে। ভাঙনরোধ করতে হলে সবার আগে জেগে ওঠা চরটি কেটে দিতে হবে। এছাড়া ইটভাটাও সরিয়ে নিতে হবে।
      
বাজারে বসেই মোবাইল ফোনে কথা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের সঙ্গে। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে অচিরেই কিছু কাজ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। পরবর্তিতে স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হবে। 

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ