ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৪ ১৪২৬

  • || ০৪ শা'বান ১৪৪১

২০

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

দেশের মুক্তি সংগ্রামে অসামান্য অবদানের জন্য ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক কমান্ডার মরহুম আব্দুর রউফ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।  কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জন্ম নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সেসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কমান্ডার আব্দুর রউফসহ ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে তথ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।

১৯৩৩ সালের ১১ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কমান্ডার আব্দুর রউফ। ভৈরব পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন তাঁর বাবা আলহাজ্ব আবদুল লতিফ। ছাত্র রাজনীতি করেছেন আব্দুর রউফ। ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-৫৪) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৫-৫৬) হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর শেষ করে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৬১ সালে বি.এড. পাস করেন। এরপর উপ-উপাধ্যক্ষ হিসেবে ঢাকার শাহীন স্কুলে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে যোগ দেন পাকিস্তান নৌ-বাহিনীতে। 

সেখানে কর্মরত অবস্থায় স্বাধীন বাংলা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে যান। ১৯৬৮ সালে একই কারণে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী সময়ে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ১৪ মাস কারাগারে থাকার পর ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে মুক্তি পান।

১৯৭১ সালে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তার অবদান ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের তরুণদের নিয়ে যে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়েছিল। সেই বাহিনীর তিন-সদস্যবিশিষ্ট পরিচালকের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। নৌ-বাহিনী পুনর্গঠনে বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে তিনি কমান্ডার পদে উন্নীত হন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা ঘটনার পর তৎকালীন সামরিক সরকার তাকে কারারুদ্ধ করে রাখে। ১৯৭৬ সালে কারামুক্তির পর তিনি চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। 

১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি)-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৩ সালে গণফোরাম গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর