ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বুধবার   ১৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ৩১ ১৪২৭

  • || ২৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
৫০

বিচারপতি হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন জিনাত আরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২০  

দীর্ঘ ৪২ বছর বিচারিক কার্যক্রমে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার দিতে সচেষ্ট থেকেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা।

বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন ছিল যে, আমি একদিন যেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হই। তবে, ব্যক্তিজীবনে একটা দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে, আমার বাবা আমার বিচারপতি হওয়াটা দেখে যেতে পারেননি। আমি হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার তিন মাস আগে বাবা মারা যান।

বিচারপতি হওয়ার ক্ষেত্রে তার বাবা এবং অপর একজন সহযোগিতা করেছেন বলে জানান আপিল বিভাগের এই নারী বিচারপতি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যাওয়ার আগে এসব কথা বলেন আপিল বিভাগের দ্বিতীয় নারী বিচারপতি জিনাত আরা।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্র্ট থেকে বিদায় নেয়ার আগে বিচারপতি হিসেবে বৃহস্পতিবার ছিল জিনাত আরার কর্মদিবসের শেষ দিন। দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আদালত কক্ষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সমিতি সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানান। এ সময় প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সকল বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদায় সম্ভাষণ উপলক্ষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, আমি আমার চার দশকের বিচারিক জীবনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার দিতে সচেষ্ট থেকেছি। দীর্ঘ এই পথচলায় আইনজীবী, আদালত সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেয়েছি। আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, আমার বাবা একজন বিচারক ছিলেন। একসময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার হন। আমার বাবার খুব স্বপ্ন ছিল যে, আমি একদিন যেন হাইকোর্টের বিচারপতি হই। তবে ব্যক্তিজীবনে একটা দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে, আমার বাবা আমার বিচারপতি হওয়াটা দেখে যেতে পারেননি। আমি হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার তিন মাস আগে বাবা মারা যান।

বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, কয়েক মাস আগে থেকেই মনে হচ্ছিল যে, অবসরে গেলে হয়তো একটা মুক্তি মিলবে। তবে এটা সত্য যে, আজ বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে এসে নিজের মাঝে একটা বিষণ্নতা কাজ করছে। আপনারা ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।

১৯৫৩ সালের ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন জিনাত আরা। তার বাবার নাম এইচ এম আর সিদ্দিকী (মৃত)। মায়ের নাম বেগম আয়শা সিদ্দিকী (মৃত)।

জিনাত আরা বিএসসি ও এলএলবি পাসের পর ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর বিচার বিভাগে মুনসেফ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে নিয়োগ পান। আর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন। এরপর ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর জিনাত আরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিচারপতি জিনাত আরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দ্বিতীয় নারী বিচারপতি। এর আগে প্রথম আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে অবসরে যান বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

আদালত বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর