ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৭ ১৪২৭

  • || ০৪ সফর ১৪৪২

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
৪৮

বঙ্গবন্ধুর খুনীরা তারেকের বিজনেস পার্টনার

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২০  

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের মধ্যে ৬জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে এবং ৬ জন এখনো বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন। এই পলাতক ৬ খুনীদের মধ্যে সর্বশেষ খুনী মাজেদকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো ৫ জন পলাতক রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, ফিরিয়ে আনা হবে বলে তারস্বরে চিৎকার করলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি অনেক কম। গতকালও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন যে মুজিববর্ষে নাকি তিনি বঙ্গবন্ধুর বাকি হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনবেন। যদি সত্যিই তিনি ফিরিয়ে আনতে পারেন তাহলে নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসার দাবিদার।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই বাকি ৫ জনের তিনজন ছাড়া বাকিরা কোথায় রয়েছেন সেই তথ্য নেই সরকারের কাছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মধ্যে অন্যতম শিরোমনি যিনি, তিনি হলেন খন্দকার আব্দুর রশীদ। এই খুনি আব্দুর রশীদ কোথায় রয়েছেন, সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। শরীফুল হক ডালিমের সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য শোনা যায়। জানা যায় যে তিনি বিভিন্ দেশে ঘুরেফিরে বেড়ান। নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছেন, রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ভারতে অবস্থান করছেন। এদের ব্যাপারে এরকম নিশ্চিত তথ্য জানা গেছে।

তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে খুনী আব্দুর রশীদ এবং শরীফুল হক ডালিমের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তারা তারেক জিয়ার ব্যবসায়িক পার্টনারও। কয়েকটি সূত্র জানায়ও যে খুনী খন্দকার আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন লিবিয়া অবস্থান করেছিলেন। লিবিয়া থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানে বসেই তিনি বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে খুনী রশিদকে পাকিস্তান থেকে আনার ব্যাপারে দুইদফা কূটনৈতিক বৈঠকের কথা জানা যায়। কিন্তু পাকিস্তান অনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে রশিদের থাকার কথা অস্বীকার করে।

কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে যে রশীদ পাকিস্তানেই অবস্থান করছেন, পাকিস্তানের পাসপোর্ট গ্রহণ করে তিনি তারেকের বিজনেস পার্টনার হিসেবে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। খুনী রশীদের অন্তত তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টগুলোতে যে অর্থকড়ি রয়েছে সেগুলো তারেকের বলেই বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনী শরীফুল হক ডালিম কেনিয়াতে ছিলেন। কেনিয়াতে থাকা অবস্থাতেই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাতে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করেছিলেন। এখন দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং মাঝেমধ্যেই তিনি ইউরোপে যান।

একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে যে, ২০১৭ সালে ডালিমকে যুক্তরাজ্যে দেখা গেছে এবং সেখানে তিনি ভিন্ন পাসপোর্ট নিয়ে নাম গোপন করে গিয়েছিলেন। সেখানে তারেকের সঙ্গে তার বৈঠকও হয়েছে। ডালিম এবং রশীদ দুইজনেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত বলে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে থেকে তাদের মূল কাজ হলো বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা এবং শেখ হাসিনাকে উৎখাত করা। এজন্য তারা বিভিন্ন সময়ে জঙ্গীসহ নানারকম সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এমন তথ্যও পাওয়া গেছ।

অন্যদিকে নূর চৌধুরীকে ফেরত নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কানাডা সরকারের সঙ্গে কয়েকদফা আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত নূর চৌধুরীর ব্যাপারে কানাডা সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। কারণ কানাডার আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন, তাহলে যে দেশে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সেদেশকে কানাডা ফেরত দেয় না। কারণ কানাডায় মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতার অনেকখানিই অগ্রগতি হয়েছে। রিসালদার মোসলেম উদ্দিন এখন ভারতে তাবলীগের সঙ্গে জড়িত এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ভারত সরকার জানিয়েছে যে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারত সরকার বাংলাদেশকে সহযোগীতা করবে।

রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর