ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪২৭

  • || ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
১০০৮

পানচিনিতে সস্পর্কের শুরু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

‘পান খাইয়ে অতিথি বরণ, পান খাইয়ে বিদায়’ বাংলায় আতিথেয়তার এই সৌন্দর্য এখন অন্যদিকে খানিকটা ঘুরে গেলেও, ম্লান হয়ে যায়নি। বিশেষ করে আত্মীয়তার বন্ধন শুরুর বেলায় পানের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। অল্প বা বড় পরিসরে এই রীতি চালু আছে পুরো দেশে। ঘটা করে পানচিনি উৎসব পালন হওয়ার কথা যদি আসে, তবে প্রথমেই আসবে পুরান ঢাকার কথা। কনে পছন্দ হয়ে গেলে বরপক্ষ যেদিন কনের বাড়ি গিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়, সেদিনই পানচিনি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিয়ে সংক্রান্ত উভয় পক্ষের যাবতীয় আলোচনার জন্য পানচিনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।  

এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পেশাজীবী ঘটক, যাদের বলা হয় মোতাসা।  বরপক্ষ এতো পরিমাণ মিষ্টি আর পান-সুপারি নিয়ে হাজির হওয়ার চেষ্টা করে, যাতে প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতে দিলেও শেষ না হয়। পুরান ঢাকার বাসিন্দারা পানচিনি অনুষ্ঠানকে মনে করে ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’। অভিজাত রীতি হিসেবে টিকে আছে এই অনুষ্ঠান। কনেপক্ষ প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে মিষ্টি-পান-সুপারি পাঠিয়ে বিয়ের খবর পৌঁছায়। কনের বাড়িতে পানচিনি অনুষ্ঠান হওয়ার পর কনেপক্ষ বরের বাড়িতে উপহার পাঠায়। এই উপহারের পরিমাণ কখনো কখনো বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছায়। উপহারগুলো কুলির মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। আর কুলিরা এসব উপহার মাথায় নিয়ে সদর রাস্তা দিয়ে হেঁটে বরের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায়।

পুরান ঢাকার বিবাহ রীতিতে পানচিনি অনুষ্ঠানের যে মেজাজ, তার সঙ্গে মিল নেই হিন্দু সনাতন বিবাহরীতির পানচিনি অনুষ্ঠানের। তবে হিন্দু বিবাহরীতিতে পানচিনি অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। লেখক ও সাংবাদিক তাপস রায় বলেন, কনের গায়ে হলুদের দিন ছেলের বাড়ি থেকে উপঢৌকন আসে। সেই উপঢৌকনের সঙ্গে পান-সুপারিও আসে। একইভাবে বরের বাড়িতে বউভাত অনুষ্ঠানের দিন পান-মিষ্টি-মাছ এগুলো কনের বাড়ি থেকে পাঠানো হয়। বরকে যখন বরণ করে নেয়া হয়, তখন ডালার ভেতর পান-সুপারি থাকে। ডালায় আরো রাখা হয় প্রদীপ, কলা, পঞ্চপাতা দিয়ে সাজানো মঙ্গলঘট। বর আসার পরেই মুরব্বিরা বরণ করে নেন। প্রদীপ মাথায় ঠেকিয়ে দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়। মাথায় ধান-দূর্বা দেয়া হয়। দুধ দিয়ে বরের হাত ধুয়ে দেয়ার পর, দুধ খাইয়ে দেয়া হয়। তারপর বরের হাতে পান-সুপারি দেয়া হয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, বরকে এই বাড়িতে বরণ করে নেয়া হলো। বলতে গেলে, পানচিনি অনুষ্ঠানটিই এমন যেন, সম্পর্কের শুরু ঘোষণা করে দেয়। 

ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর