ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ১৬ জুলাই ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ১ ১৪২৭

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
৭৪০

পাখি হয়েও যারা উড়তে পারেনা!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯  

পাখি পৃথিবীর সবচেয়ে অসাধারণ সৃষ্টিগুলোর মধ্যে একটি।পাখির রুপে কমবেশি সকলেই বিমোহিত হয়ে থাকেন।আর তাইতো শখে অনেকেই পাখি পুষেন। তবে পাখিরা যখন আপন মনে আকাশে উড়ে চলে সে দৃশ্য দেখেই তো মানুষের মনে সাধ জাঁগে যদি পাখির মত ডানা মেলে উড়তে পারতাম! তবে জানেন কী? সব পাখিরাই কিন্তু উড়তে পারে না।এদের সংখ্যাও নেহায়তই কম নয়। এই উড়তে না পারা কয়েকটি পাখিদের নিয়ে আজকের আয়োজন-

 

পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইন

এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে যত পাখি টিকে আছে তাদের মধ্যে প্রায় চল্লিশ প্রজাতির পাখি আছে যারা উড়তে পারে না। নাম করতে গেলে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত পাখিগুলো হলো—উটপাখি, কিউই, পেঙ্গুইন, ইমু, মুরগি ইত্যাদি। উড়তে পারে না বলেই ইংরেজিতে এদের বলে ফ্লাইটলেস বার্ড। যেসব পাখিরা উড়তে পারে না এবং যারা পারে তাদের মধ্যে দুটি মৌলিক পার্থক্য আছে—প্রথমত, উড়তে অক্ষম পাখিদের ডানার হাড়গুলো অপেক্ষাকৃত ছোট এবং দ্বিতীয়ত, উড়তে সক্ষম পখিদের বুকের ঠিক মাঝের লম্বা হাড়ের উপরটা জাহাজের পাটাতনের মতো।

 

উটপাখি

উটপাখি

ওই পাটাতনের সঙ্গেই আটকে থাকে শক্তিশালী পেশি, ওগুলো ওড়ার সময় পাখির ডানা নাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা উড়তে পারে না তাদের বুকের ওই হাড়টি হয় চ্যাপ্টা বা খুব সামান্য বাঁকানো। উড়তে না পারার ব্যাপারটিতে পাখিরা অভ্যস্ত হয় সাধারণত সেই সব দ্বীপাঞ্চলে যেখানে কোনো ধরনের শিকারির উৎপাত নেই। তাই বলে সব জাতের উড়তে অক্ষম পাখিদের দ্বীপাঞ্চলেই পাওয়া যায় তা না। উট পাখিদের বাস পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার তৃণময় সমতলভূমিতে। উটপাখিরা উড়তে পারে না। তাই শত্রু দেখলে তারা অন্য ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। ভয় দেখালে ওরা পায়ের থাবাকে ভয়ঙ্কর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

(অস্ট্রিচ :

 

অস্ট্রিচ

অস্ট্রিচ

উট পাখি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি।কিন্তু এদের ওড়ার ক্ষমতা নেই। তবে দারুণ জোরে ছুটতে পারে। তারা ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে ছোটে। এদের আফ্রিকায় দেখতে পাওয়া যায়। উচ্চতা প্রায় ৩ মিটার আর ওজন ১৫০ কেজিরও বেশি হতে পারে। এদের রয়েছে বিশাল বিশাল পাখা। পুরোটা মেলে ধরলে প্রায় ৭ ফুট হবে এর দৈর্ঘ্য। এই বড় বড় পাখার জন্যই তো এরা উড়তে না পারলেও পাখি তারা।পুরুষ পাখিগুলোর পাখার রং হয় কালো এর সঙ্গে থাকে সাদা লেজ। মেয়েগুলোর পাখার রং হয় ধূসর বাদামি। অনেকর মনেই প্রশ্ন আসে যে, এত বড় পাখা থাকার পরও কেন এরা উড়তে পারে না? কারণ এদের শরীরের ওজন অনেক বেশি। এত বেশি ওজন নিয়ে ওড়ার মতো শক্তি তাদের ওই বড় পাখাতেও নেই। এজন্যই এরা উড়তে পারে না।

(এমু :

 

এমু

এমু

বড় আকৃতির পাখিদের একটি হচ্ছে এমু পাখি।অস্ট্রেলিয়ায় এদের আবাস ভূমি। এদের শরীরে এক বিশেষ ধরনের তেল পাওয়া যায়। আর এই তেলের জন্য ইউরোপিয়ানরা ১৯ শতকে এদের ব্যাপকভাবে হত্যা করেছিল। বর্তমানে এদের কেবল মাত্র একটি প্রজাতি টিকে আছে অস্ট্রেলিয়ায়। তাদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারের মতো। এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি। গড়পড়তা উচ্চতা ৫ ফুট (১ দশমিক ৫ মিটার) এবং ওজন ৪৫ কিলোগ্রাম (১০০ পাউন্ড)-এর বেশি। মাটিতে ছোট গর্ত বা খাঁজের মধ্যে এরা ঘন সবুজ রঙের প্রায় চার ইঞ্চি লম্বা ডিম রেখে দেয়।

 

এমু

এমু

তা দিয়ে ডিম ফুটে ছানা বের হতে সময় লাগে প্রায় দুই মাস, তা দেয়ার পুরো দায়িত্বই কিন্তু নেয় পুরুষ এমু। এমনকি বাচ্চা যত্নআত্তির কাজটাও করে সে-ই।এই সময় তারা ডিম ছেড়ে নড়ে না এমন কী খাওয়া-দাওয়াও করে না, পায়খানা-প্রস্রাব করে ডিমের উপর বসেই।এরা গাছপালা ফলমূল, পোকা মাকড় সবকিছুই খেয়ে জীবন ধারণ করে অর্থাৎ এরা সর্বভূক।এক সময় সারা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে পাওয়া গেলেও কোনো কোনো এলাকার এমু পাখি আজ বিলুপ্ত, যেমন তাসমানিয়ান এমু এবং ক্যাঙ্গারু দ্বীপের এমু পাখি। প্রায় ৫ লাখ এমু পাখি বসবাস করে অস্ট্রেলিয়াতে, আর সারা পৃথিবীর চিড়িয়াখানাতে বসবাস আরো বেশ কিছু এমু পাখির।

(কিউই:

 

কিউই

কিউই

কিউই পাখির মূল নিবাস হচ্ছে নিউজিল্যান্ড। আশপাশের কিছু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ছাড়া এ পাখির দেখা পাওয়া বিরল। নিউজিল্যান্ড গর্বের সঙ্গে ব্যতিক্রমী পাখিটিকে জাতীয় পাখির মর্যাদা দিয়েছে। ধূসর বাদামী রঙের উড়তে অক্ষম এই পাখিদের আকৃতি অনেকটা মুরগির মতো। অনেক অর্থেই কিউইরা আসলে ব্যতিক্রমী। আগের বড় পাখার যতটুকু এ যুগে টিকে আছে (মাত্র দুই ইঞ্চি) তাও ঢাকা পড়ে থাকে তাদের পালকের নিচে। একদম গোড়ার দিকে থাকার বদলে ওদের নাসারন্ধ্র থাকে লম্বা নমনীয় ঠোঁটের অগ্রভাগে।

 

কিউই

কিউই

আর সব পাখিদের পালকের মতো এদের পালকের গোড়ার দিকে লম্বা হাতলের মতো থাকে না এবং সেগুলো অনেক নরম ও চুলের মতো।পাগুলো বেশ মোটাসোটা মজবুত ও পেশিবহুল। প্রত্যেক পায়ের চার আঙুলে একটি করে বড় নখর আছে। ছোট ছোট চোখগুলো দিনের আলোতে খুব বেশি সুবিধা করতে পারে না। কানের বাইরের দিকটা বেশ বড় ও উন্নত। ঠোঁটের গোড়ার দিকটায় ছোট ছোট লোমের মতো থাকে।পাখিটির শরীরের যে দৈর্ঘ্য, এর তিন ভাগের এক ভাগ হচ্ছে ঠোঁট। দেখতে ঠুনকো একটি কাঠি মনে হলেও এই ঠোঁটের ডগায় রয়েছে গন্ধ শোঁকার কৌশল। আর তা এতই প্রখর যে মাটির নিচে পোকামাকড়ের অস্তিত্ব ওরা দিব্যি টের পায়। তখন ওই লম্বা ঠোঁট দিয়ে মাটি খুঁড়ে জ্যান্ত খাবার বের করে আনে।

(পেঙ্গুইন :

 

পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইনকে বলা হয় কালো কোট পড়া ভদ্রলোক। পৃথিবীতে ১৭ প্রজাতির উড়তে না পারা জলচর এই পাখিদের বসবাস কেবল দক্ষিণ গোলার্ধে। এই ১৭ প্রজাতির অধিকাংশই কিন্তু অ্যান্টার্কটিকার বাইরে ৪৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি অক্ষাংশে বাস করে। সেখানে দ্বীপের মধ্যে তারা বাচ্চা পেঙ্গুইনের জন্ম দেয় ও লালন-পালন করে।খুবই স্বল্প সংখ্যক পেঙ্গুইনের বসতি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে আর গ্যালাপাগোস পেঙ্গুইন বাস করে বিষুব অঞ্চলে।গবেষকদের ধারণা, উত্তর সাগর এলাকায় অ্যক নামে এক জাতের ছোট পাখি আছে যারা উড়তে পারে না অথচ ডানার সাহায্যে সাঁতার কাটে। তাদের থেকেই পেঙ্গুইনদের উৎপত্তি।

 

পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইন

কালক্রমে এদের বিবর্তন ঘটেছে। ডানার সাইজ ধীরে ধীরে কমে গেছে, যার ফলে ড্রাইভিংয়ের দক্ষতা বেড়েছে, তেমনি আবার উড়ার ক্ষমতা কমে গেছে। যুগের পর যুগ ধরে একটু একটু করে পেঙ্গুইনের অস্থি বা হাড়গোড়ের ঘনত্ব বেড়েছে। হালকা হাড় থাকলে পাখির উড়ার কাজটা সহজতর হয়।সেই হালকা হাড়ের জায়গায় আরো বেশি ঘন ও ভারি হাড় জায়গা করে নেয়। এতে পেঙ্গুইনের ভেসে থাকার ক্ষমতা কমে গিয়ে ডুব দেয়ার কাজটা সহজতর হয়।তবে ডানার পরিবর্তনই প্রধান অভিযোজন হিসাবে কাজ করে। ডানা তখন ফ্লিপারে পরিণত হয়। ওড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের দৈহিক আকারও বেড়ে যায়। আকার বড় হওয়ায় পানিতে বিচরণ ও ডুব দেয়ার কাজও সহজতর হয়।

(রিয়া:

 

রিয়া

রিয়া

এরাও এক ধরণের উটপাখি। প্রায় ৮ ফুট দীর্ঘ পাখার মালিক হয়েও বেচারারা মাটি ছেড়ে উপরে যেতে পারে না। মার্কিন মুলুকে এই পাখিরাই সবচেয়ে বড়।দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পেরু, চিলি উরগুয়ে প্রভৃতি দেশে দেখা মেলে রিয়া পাখিদের। সমতল তৃণভূমির খোলামেলা জায়গায় বাস করতে পছন্দ করে এরা। দুই ধরনের রিয়া পাখির দেখা মেলে-গ্রেটার এবং লেসার রিয়া। রিয়ারা সর্বভুক, গাছের পাতা, পোকা মাকড়, ছোট ছোট প্রাণী ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এরা ১ থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত উঁচু এবং ৪০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের হয়ে থাকে। স্ত্রী পাখি ডিম পেড়ে চলে যায় আর বাসায় বসে ডিমে তা দেয় পুরুষ পাখি। ক্রমশঃ কমে আসছে রিয়া পাখির সংখ্যা। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার’ এর তালিকায় রিয়া পাখি ঝুকিপুর্ণ প্রজাতি।

ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর