ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

সোমবার   ২০ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৬ ১৪২৬   ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

১৩৯

পাকবাহিনী তখন দিশেহারা ও পরাজয়ে ভীত এক বাহিনী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১। আত্মসমর্পণের প্রস্তাব মেনে না নেয়ায় ঢাকার উপর বোমাবর্ষণ শুরু করে যৌথবাহিনী। এদিন গভর্নর আব্দুল মালেক পদত্যাগ করেন। তিনি ও মন্ত্রীসভার আরো কয়েকজন আশ্রয় নেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। এসময়ও খন্ড খন্ড যুদ্ধ চলতে থাকে টঙ্গী, ডেমরা, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রামে। 
হেলিকপ্টারের সাহায্যে গোমতী নদী পার হয়ে মেঘনা নদীর তীরে বৈদ্যেরবাজারে অবস্থান নেয় যৌথবাহিনী। ময়নামতিতে ১৬৩৪ জন পাকসেনা আত্মসমর্পণ করে। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের আনা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে তৃতীয়বারের মতো ভেটো দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।
এদিন বিভিন্ন রণাঙ্গনে ক্রমাগত উড়তে থাকে বাংলাদেশের বিজয় পতাকা। শত্রুমুক্ত হয় ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের পূবাইল, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বৈদ্যের বাজার, বগুড়া জেলার শেরপুর ও শিবগঞ্জ থানাসহ জেলা শহরের একাংশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জ এলাকা, আক্কেলপুর ও পাঁচবিবিসহ জয়পুরহাট জেলা, যশোরের কেশবপুর, রংপুরের মিঠাপুকুর, চট্টগ্রামের বান্দরবান, চান্দনাইশ, সাতকানিয়া, পটিয়া ও কুমিড়া, ব্রাহ্মবাড়িয়ার নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল প্রভৃতি এলাকা। এদিনই সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলীয় দখলদার বাহিনী প্রধান নিয়াজী ও গভর্নর ডা. মালিকের কাছে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে এক তারবার্তা পাঠালে চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়ে দখলদার বাহিনীর মনোবল।

মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের প্রাক্কালে এ দিন মুক্তিযুদ্ধের যৌথ কমান্ড মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে রাজধানী ঢাকা। দখলদার বাহিনীর সব কয়টি ডিভিশন ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল কমান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

হানাদারদের উত্তর সেক্টরের ময়মনসিংহ ব্রিগেড ঢাকার পথে পশ্চাদ্পসরণ করলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকা পৌঁছাতে পারেনি। তারা জয়দেবপুরে আটকে পড়ে। মিত্রবাহিনীর অবস্থানের কারণে দখলদার বাহিনীর উত্তর-পশ্চিম সেক্টরের ১৬তম ডিভিশন কিংবা পশ্চিম সেক্টরের ৯ম ডিভিশন কারো পক্ষেই পশ্চাদ্পসরণ করেও ঢাকার ডিফেন্সে এগিয়ে আসার কোনো পথ ছিল না। তাদের প্রতিটি ডিভিশন ইতিমধ্যে যৌথ বাহিনীর আক্রমণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ইস্টার্ন কমান্ডের কিছু সেনা ঢাকায় আসতে পারলেও তাদের অধিকাংশ সেনা এরইমধ্যে যৌথ বাহিনীর হাতে বন্দি হয়। বিভিন্ন রণাঙ্গন থেকে একের পর এক পরাজয়ের সংবাদে দখলদার বাহিনী তখন দিশেহারা ও পরাজয়ের আশঙ্কায় ভীত এক বাহিনী। 
মিত্রবাহিনীর কাছে খবর পৌঁছায় যে, চতুর্মুখী আক্রমণে দিশেহারা পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও হানাদার বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বর গভর্নর হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। মিত্রবাহিনী এ বৈঠক পণ্ড করার লক্ষ্যে ঢাকায় গভর্নর হাউসে বিমান হামলা চালায়। এ হামলায় গভর্নর হাউস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপায়ন্তর না দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত পূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রিপরিষদ পদত্যাগ করে। এসময় চট্টগ্রামে দখলদার বাহিনীর কামানের অবস্থানসহ গ্যারিসন, ওয়্যারলেস স্টেশন, জ্বালানি ডিপো ও বন্দরসমূহের ওপর ভারতীয় নৌ-বাহিনীর ক্রমবর্ধমান বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে।

এই দিনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে করুণতম অধ্যায়। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবিদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। অনেকের লাশ এরপর আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি। 

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর