ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
১৯৯

নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় আসা নিশ্চিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২০  

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা আসা নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়েছি। আজ দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশে আসছেন। তার সঙ্গে এসব বিষয় (নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় আসার বিষয়ে) নিয়ে আলাপ হবে। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল-২০২০ এর ওয়েবসাইটের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে অপর এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতের দিল্লিতে সহিংসতা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা চাইব যত দ্রুত সম্ভব এটার সমাধান হোক। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতায় কোনো বিক্ষোভই আমরা আমলে নিচ্ছি না। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১৭ মার্চ সকালে আমাদের মহান স্বাধীনতার অন্যতম সহযোগী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় আসবেন। আসেম ডে উপলক্ষে রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিজ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।

মোদির এ সফরে বাংলাদেশ-ভারতের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে কিনা- জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘অবশ্যই আলোচনায় আসবে সে সব বিষয়। তবে মেইন ফোকাস থাকবে মুজিববর্ষ।’

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় আসার বিরোধিতা করে আসছে কয়েকটি সংগঠন। কেউ কেউ নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় আমন্ত্রণ প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবির মধ্যেই রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় আসার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।

ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটালের ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের নিয়মে মেহমানদের যা যা করার সেই সম্মান আমরা দেব। তিনি (নরেন্দ্র মোদি) ঢাকায় আসতে রাজি হয়েছেন। তাকে সেই সম্মান দেয়া হবে। আমরা আশা করব, আমাদের মেহমানরা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা, জনগণের ইচ্ছার বিষয়ে একটা ভালো অবস্থান নেবেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করা মাহাথির বিন মোহাম্মদ আসার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নেই; তবে তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যভাবে তাকে নিয়ে আসতে পারি। ভারতের সহিংসতা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ দেশ হিসেবে ভারতের চলমান সহিংসতা পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ।

ওয়েবসাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, এ বছর ঢাকায় ইয়ুথ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওআইসি। আগামী ১২ এপ্রিল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের আনন্দ সম্মেলনে আসা যুবকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। তিনি বলেন, এ বছর ঢাকায় ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ঘোষণা করায় সারা বিশ্বের যুব সমাজ মুজিববর্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে। তিনি আরও বলেন, যুব সম্মেলনে বছরজুড়ে ওপেনিং, ক্লোজিংসহ আটটি সেশন থাকবে। এর মধ্যে ওপেনিং সেশনে যারা আসবেন তারা ৪-৫ দিন দেশে অবস্থান করবেন। বাকি সেশনগুলো যখন হবে তখন তারা ২-৩ দিন থাকবেন, আবার চলে যাবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর জানান, অনলাইনে বিভিন্ন দেশের ৮-১০ হাজার যুবক আবেদন করবেন বলে আশা করছি। সেখান থেকে ১৫০ জন বাছাই করা হবে। এর মধ্য থেকে ইনোভেশন, পরিবেশ, হিউম্যান রাইটসহ পাঁচ ক্যাটাগরিতে ১০ জনকে বঙ্গবন্ধু গ্লোবাল ইয়ুথ পুরস্কারের জন্য বাছাই করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে করা হবে। তিনি জানান, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সব খরচ বাংলাদেশ বহন করবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় স্পন্সরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সম্মেলনে ৫৭টি দেশের যুবকরা অংশ নেবেন বলে আশা করছি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

আসেম ডে উপলক্ষে সেমিনার : সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, করোনাভাইরাস কমে এসেছে, তবে সতর্কতা বাড়াতে হবে। তা নাহলে আবারও হঠাৎ করে এটা বেড়ে যেতে পারে। এ ভাইরাস নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ছিলাম। চীন থেকে আগত যাত্রীদের আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সবাই নিরাপদে আছেন এবং ফিরে আসছেন।

সেমিনারে বাংলাদেশের চীনা অ্যাম্বাসির ডেপুটি চিফ অব মিশন ইয়ান হুয়ালং বলেন, কোভিন-১৯ ভাইরাসের কারণে চীন এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ ভাইরাস ঠেকাতে মাত্র ১০ দিনে আমরা হাসপাতাল তৈরি করেছি। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক ও হাসপাতালের সংখ্যাও বাড়িয়েছি। এখন করোনা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। ভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন- প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল শেখ মাসুদ আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, হোসাইন জামিল প্রমুখ।

স্বদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর