ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ১৬ ১৪২৬

  • || ০৪ রজব ১৪৪১

১৪২

ডাক্তার দেখানো যেন যুদ্ধজয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০১৯  

শেরপুর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানো যেন যুদ্ধজয় করা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে ডাক্তার পর্যন্ত যেতে একজন রোগীর অন্তত চার ঘণ্টা সময় লাগে। তাই রোগীর ভিড় সামলাতে ডাক্তার কোনো রকম ব্যবস্থাপত্র দিয়েই দায়িত্ব সারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২/৩ জনের বেশি ডাক্তার দিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। একজন ডাক্তারকে দিনে দুই থেকে আড়াইশ রোগী দেখতে হয়। একদিকে ডাক্তার সংকট অন্যদিকে রোগীর ভারে নিজেরই সঙ্কটাপন্ন অবস্থা জেলার ১৫ লাখ মানুষের সেবাকেন্দ্রটির। তাছাড়া হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও শয্যা অনেক কম। এখানে শয্যা পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার।

অভিযোগ আছে, পাঁচ বছর আগে হাসপাতালটি আড়াইশ শয্যার স্বীকৃতি পেলেও আজ পর্যন্ত ১০০ শয্যার জনবল নিয়ে চলছে। সরকারি হিসাবে ১০০ শয্যার হাসপাতালে ৩৬ জন ডাক্তার প্রয়োজন। সেখানে শেরপুর সদর হাসপাতালে ডাক্তার আছেন মাত্র ১৬ জন। এরমধ্যে কেউ কেউ আছেন বদলির তদবীরে।

সূত্র জানায়, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক, ইএনটিসহ ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই এই হাসপাতালে। এ কারণে সামান্য সমস্যায় ভুক্তভোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল বা বিভিন্ন ক্লিনিকের শরণাপন্ন হতে হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৭২৭ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। টিকিট আর ডাক্তার এই দুই দফায় দীর্ঘ লাইন পার হতে সময় ও ধৈর্যের অভাবে অনেকে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। বহির্বিভাগে অন্তত দিনে সাতজন ডাক্তার রোগী দেখলে ভোগান্তি কাটবে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ভর্তিকৃত রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা, টয়লেটের পাশে কোনোভাবে শুয়ে-বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন ভর্তি থাকে। সঙ্গে শিশুর মা থাকায় সেখানে অবস্থান করে কমপক্ষে ১০৪ জন। রোগী আর স্বজনের ভারে গাইনি ওয়ার্ডের অবস্থাও নাজুক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল জেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। পাশের জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ ও সানন্দবাড়ী উপজেলা এবং কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা না থাকায় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম প্রায় ভেঙে পড়েছে। তার ওপর রয়েছে শয্যা ও ওষুধের সংকট। এছাড়াও হাসপাতালে তিনটি অত্যাধুনিক আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও লোকবলের অভাবে তা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গরিব রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে হয়।

স্থানীয় আবুল হাসেম বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। অধিকাংশ রোগীকেই কিছু বড়ি ও ইনজেকশন ছাড়া বাকি সব ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয়। রোগীদের মধ্যে পরিবেশন করা খাবারও নিম্নমানের। এ ছাড়া নার্স স্বল্পতায় রোগীরা যথাযথ সেবা পায় না।

সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের (২১) সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ফুটবল খেলার সময় আঘাত পেয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু শয্যা পাচ্ছেন না। পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দাতেই তাকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জেলা শহরের শীতলপুর মহল্লার হামিদ, সদর উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের রাবেয়া খাতুন ও মধ্য বয়ড়া গ্রামের আজিম উদ্দিন প্রায় একই ভাষায় বলেন, সকাল ১০টায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে দুপুর ১টা পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন সিনিয়র নার্স জানান, নার্স সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীদের সেবা দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ডাক্তারের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আর হাসপাতালের নির্মাণাধীন নতুন ভবনটি চালু হলেই শয্যা সংকট কেটে যাবে।

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ