ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

১৪৭

চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা: ধরাছোঁয়ার বাইরে দুই আসামি!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০১৯  

ঢাকা-বাজিতপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা’ পরিবহনের একটি বাসে সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মো. বোরহান ধরা পড়েনি। বাসের কটিয়াদীর সুপারভাইজার, ঘটনার প্রত্যক্ষ সহযোগী ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আল-আমিনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

এদিকে আল-আমিন ধরা না পড়ায় ঘটনার দিন মৃতপ্রায় তানিয়াকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার টানা-হেঁচড়ার বিষয়ে পুলিশও অন্ধকারেই আছে।

পুলিশ বলছে, এ দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে তাদের নিজ এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বাজিতপুর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারী জানান, বোরহান ও আল-আমিন যেন দেশের বাইরে চলে যেতে না পারে সে লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা দেশের বিমানবন্দরগুলোসহ সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। সূত্র মতে, পুলিশ এরই মধ্যে আল-আমিনের পাসপোর্ট জব্দ করেছে। খোঁজ পেয়েছে বোরহানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেরও।

পুলিশ জানায়, লালন বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর সঙ্গে পরামর্শের পর নূরু একটি স্টপেজ থেকে তার খালাতো ভাই মো. বোরহানকে তুলে নেয়। ওই দিন (৬ মে) রাত ৮টার দিকে কটিয়াদী, কদমতলী ও উজানচর স্টপেজে তানিয়া বাদে সব যাত্রী নেমে যায়। এরপরই তিন পাষণ্ড সহায়হীন মেয়েটির ওপর অবর্ণনীয় পাশবিক নির্যাতন চালায়। 

মামলার কাগজপত্র এবং আসামি নূরু ও লালনের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, দলবদ্ধ ধর্ষণের সময় তানিয়ার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করা হলে পেছনের খুলি থেঁতলে যায়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ অবস্থায় তিন ধর্ষক তানিয়াকে নিয়ে বাস থেকে পড়ে যাওয়ার নাটক সাজায় এবং তাঁকে পিরিজপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসার নাম করে ফেলে রেখে যাওয়ারও চেষ্টা চালায়। ব্যর্থ হয়ে তানিয়াকে ফের বাসে তুলে কটিয়াদীর পথে রওনা হয়।

তদন্তে নিয়োজিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এরপর রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিন ধর্ষক তানিয়াকে নিয়ে স্বর্ণলতা বাসের কটিয়াদী কাউন্টারের সুপারভাইজার আল-আমিনের কাছে রেখে কাপাসিয়ার উদ্দেশে চলে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সারোয়ার জাহান জানান, পরে আল-আমিন মুমূর্ষু তানিয়াকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তার জিম্মায় রাখে। এমনকি সে তানিয়াকে নিয়ে কটিয়াদীর বেতালের দিকেও যায় বলে তদন্তে জানা গেছে। এটা রহস্যজনক। তিনি বলেন, আল-আমিন ধরা না পড়ায় জানা যাচ্ছে না যে এ দুই ঘণ্টা সময় তানিয়া জীবিত ছিলেন, না মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। এ দীর্ঘ সময়টিতে মৃতপ্রায় মেয়েটিকে নিয়ে তারা কী করছিল তাও বোঝা যাচ্ছে না। আল-আমিনকে ধরতে পারলে এ রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর