ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৪ ১৪২৬

  • || ০৪ শা'বান ১৪৪১

৩৩

গর্ভবতী-প্রসূতিদের চিকিৎসা ঝুঁকিতে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২০  

প্রতিদিন দেশের প্রায় ১০ হাজার নারী গর্ভবতী হন। সমসংখ্যক নারী সন্তান প্রসব করেন। আর গড় হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ নারী প্রসূতি অবস্থায় থাকেন। তাঁদের সবার নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনাভাইরাসে গর্ভবতীর নিজের পাশাপাশি গর্ভের সন্তানও ঝুঁকিতে পড়ে। এ ছাড়া যে গর্ভবতীর অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব জরুরি হয়ে পড়ে, তাঁর ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা আরো বেশি। এদিকে আবার কোনো অপারেশন থিয়েটারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে চিকিৎসা দেওয়া হলে সেটা সন্তান প্রসবের জন্য ব্যবহার করা আরো ঝুঁকিপূর্ণ। সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নতুন গর্ভধারণে নিরুৎসাহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অবস অ্যান্ড গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের গর্ভবতী নারীদের নিয়ে খুবই উৎকণ্ঠায় আছি। গর্ভবতী নারীর ও অনাগত  সন্তানের জন্য করোনাভাইরাস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি তাদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করানোর জন্য হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়া-আসা ঝুঁকিপূর্ণ। সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে অপারেশন থিয়েটারের ঝুঁকি অনেক। আমাদের দেশে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমনিতেই অপারেশন থিয়েটারের অপ্রতুলতা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এ সংকট প্রকট। এমন অবস্থায় আক্রান্তদের জন্য আলাদা অপারেশন থিয়েটার পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি করাও কঠিন। তাই অন্ততপক্ষে যা আছে সেগুলো যাতে নিরাপদে ব্যবহার করা যায় সেদিকে সরকারি-বেসরকারি সব মহলকে গুরুত্ব দিতে হবে। অপারেশন থিয়েটারে ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে।’

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মা ও শিশু বিভাগের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শরিফ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সারা দেশে মা ও শিশু কেন্দ্রের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের সচেতন করার জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছি। আমাদের আওতায় প্রায় চার হাজার কেন্দ্র রয়েছে। সেখানকার কর্মীরা প্রসূতি নারীদের নানাভাবে সতর্ক করছেন। এ ছাড়া নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য প্রসবের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরো বাড়াতে বলেছি।’

ওজিএসবি সভাপতি বলেন, ‘আমরা এখন নরমাল ডেলিভারির ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। তবে এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রসবকর্মীদের দায়িত্ব অনেক বেশি। ডেলিভারির সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অনেক বেশি রাখতে হবে। এ ছাড়া প্রসব পূর্ববর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে না গিয়ে যতটা সম্ভব ফোনে পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রসূতি নারীরা যাতে বাড়ি থেকে ফোনে পরামর্শ নিতে পারেন—এ জন্য চিকিৎসকদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব জরুরি।’

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর