ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২২ ১৪২৬

  • || ১২ শা'বান ১৪৪১

২৬০

কেউ দুর্নীতি করলে রক্ষা নেই : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২০  

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তারুণ্যে উদ্দীপ্ত একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজক ও সংগঠক প্রয়াত পিতা ছহিউদ্দীন বিশ্বাসের সুযোগ্য উত্তরসূরি তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে শিক্ষাজীবন পার করা মেধাবী এ রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী হিসেবে হাল ধরেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসনের। তাই আকাশছোঁয়া স্বপ্নই শুধু তিনি দেখেন না, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে রাতদিন কাজ করে চলেছেন। প্রশাসনের ললাটে থাকা দীর্ঘদিনের নানা অপবাদ মুছে দিতে ইতিমধ্যে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে তদবির ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সবকিছু শক্তহাতে শাণিত করছেন প্রতিনিয়ত। ফলও পেয়েছেন।

সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। প্রাইজপোস্টিং পাওয়ার আগে ঘুণাক্ষরে টেরও পাচ্ছেন না দক্ষ ও মেধাবীরা। এভাবে বদলে দিতে চান সবকিছু। ভবিষ্যতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার ছাপ পরিলক্ষিত হবে। কেউ পদোন্নতি না পেলে অন্তত তিনি জানতে পারবেন- কেন পাননি পদোন্নতি। শাস্তিমূলক ওএসডি করার অভিযোগ আর শুনতে চান না। জনপ্রশাসনের অভিধানে এ ধরনের কোনো শব্দও থাকবে না। সবকিছু চলবে নিয়ম মেনে। তবে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা হালাল করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজটা ঠিকমতো করতে হবে।

কাজের টার্গেট পূরণ করে বেতনভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা নিতে হবে। এ ছাড়া জনসেবার নামে কারও বিরুদ্ধে জনহয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বেশি সময় নেবে না। বুধবার মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলাপচারিতায় এভাবে তিনি তার স্বপ্ন বুননের সাবলীল বর্ণনা দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের সিটি এডিটর বিএম জাহাঙ্গীর।

যুগান্তর : এক বছরের বেশি সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে আপনি যেটুকু কাজ করেছেন, সে বিষয়ে আপনার নিজের মূল্যায়ন জানতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী : নিজের মূল্যায়ন নিজে করা সমীচীন হবে না। তবে ভালো একটি টিম নিয়ে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ তো শুরু করতে পেরেছি। ফলাফলও আসছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মী যেখানেই কাজ করুক, তাকে সব সময় মনে রাখতে হয়- তার কাজ বিশেষভাবে মনিটরিং হচ্ছে। তবে এটা ঠিক, রাতারাতি সব বদলে দেয়া যাবে না। কতগুলো চ্যালেঞ্জ তো আছেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় তিনি হাতে নেয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দেয়ার সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

যুগান্তর : মন্ত্রণালয়ে সবার মুখে আপনার একটি স্লোগান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, সেটি হল ‘রাইটম্যান রাইট প্লেস’। প্রশ্ন হল- এটি কি বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারছেন?

প্রতিমন্ত্রী : শতভাগ না হলেও ইতিমধ্যে এর সফল প্রয়োগ শুরু হয়েছে। আগে বেশকিছু প্রাইজপোস্টিং নিয়ে নানা কথা শোনা যেত; কিন্তু এখন বাস্তবতা হল ওই সব গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা পোস্টিং পেয়েছেন তারা প্রজ্ঞাপন জারির আগে জানতেই পারেননি।

খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, প্রশাসনে যারা খুবই সাধারণ সাদামাটা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত তারা সেখানে পোস্টিং পেয়েছেন। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের লেখাপড়া, প্রশিক্ষণ, বাস্তব কর্মদক্ষতাসহ নানান বিষয় পর্যালোচনা করে দেখেছে আসলে তারা সাধারণ নন, সত্যিকারার্থে অসাধারণ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং পাওয়ার পর তাদের মেধা ও দক্ষতা আরও শাণিত হচ্ছে, বিশেষ করে তারা কাজের ক্ষেত্রে আরও উৎসাহবোধ করছেন। এ ছাড়া আমরা শুধু পোস্টিং দিয়েই বসে নেই। তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড মনিটরিং করে দেখছি- তাদের পারফরমেন্স খুবই ভালো।

সুতরাং এখানেই ‘রাইটম্যান রাইট প্লেস’-এর সার্থকতা। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে। ভালো কাজের পুরস্কারের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অপরাধ করলে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। স্বজনপ্রীতি, ব্যাচপ্রীতির দিন শেষ। চাই, দক্ষতা ও সত্যিকার দেশপ্রেম। এভাবেই ‘রাইট ম্যান রাইট প্লেস’-এর স্লোগান আরও সুদৃঢ়ভাবে বিস্তৃত হবে।

যুগান্তর : প্রশাসনে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর একটা অভিযোগ সব সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রবলভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সেটি হল, ‘পদোন্নতিবঞ্চনা’। ভবিষ্যতে অন্যায়ভাবে কেউ পদোন্নতি বঞ্চিত হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা আছে কি? নিদেনপক্ষে অভিযোগকারী কর্মকর্তাকে পদোন্নতি না পাওয়ার কারণ জানানোর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না।

প্রতিমন্ত্রী : খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমত বলব, কেউ পদোন্নতি না পেলে তার পেছনে নিশ্চয় কোনো-না-কোনো কারণ থাকে। তবে দেখার বিষয়, পদোন্নতি না পাওয়ার ক্ষেত্রে কারণটি কতখানি যৌক্তিক। এটাও ঠিক যে, অনেক সময় পদোন্নতি পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, যে কারণ বিবেচনায় নিয়ে যাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি, সেটির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন আছে। এর কিছু কারণও উদ্ঘাটন করা গেছে। যেমন, নিকটতম আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের লোকজনের দেয়া প্রতিহিংসামূলক ভুল তথ্যের কারণেও কেউ কেউ পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। পদোন্নতির আগে কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলে দেখা গেছে, হিংসা বিদ্বেষের কারণে প্রতিবেশী কিংবা খুবই কাছের লোকজন মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এসব কারণও অনেক সময় বড় ভূমিকা রাখে।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের বিষয়ে আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন। প্রতিটি নেগেটিভ রিপোর্ট কাউন্টার ক্রসচেক করা হবে। একজন কর্মকর্তার বিষয়ে কেউ কোনো নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে দিলেই এসএসবি (সুপিরিয়রস সিলেকশন বোর্ড) এখন আর সেটি আমলে নেবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও সেটি যাচাই করে দেখা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি খুবই প্রণিধানযোগ্য।

যদিও এসব গোপনীয় তথ্য আমি পাবলিক করার পক্ষে নই। কিন্তু যে কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি, তাকে অন্তত পদোন্নতি না পাওয়ার কারণটি মৌখিকভাবে হলেও আমাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো পর্যায় থেকে জানিয়ে দেয়াটা ভালো কাজ হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেকে ভবিষ্যতে তার ঘাটতি বা ত্রুটি দূর করতে সচেষ্ট হবেন।

যুগান্তর : কর্মকর্তাদের অনেক সময় বেশকিছু কারণে ওএসডি করতে হয়। কিন্তু এর মধ্যে কিছু কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক কারণে ওএসডি করে ফেলে রাখার অভিযোগ বেশ দীর্ঘদিনের। যদিও এমন সংখ্যা এখন নেই বললেই চলে। প্রশ্ন হল- ওএসডিকৃত যে কর্মকর্তার বাস্তবিক অর্থে কোনো কাজ থাকে না, তাকে কোনো-না-কোনো প্রক্রিয়ায় বিশেষ কাজে যুক্ত রাখার পরিকল্পনা আছে কি না।

প্রতিমন্ত্রী : দেখুন, আপনার প্রশ্নের মধ্যেই কিন্তু উত্তরের অনেকখানি আছে। বাস্তবতা হল, আমাদের সরকার কাজে বিশ্বাসী। কাউকে বসিয়ে রেখে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভাতা দিতে চায় না। সে জন্য খোঁজ নিলে দেখবেন, এখন বেকার কোনো ওএসডি নেই।

তারপরও প্রস্তাবটি খুবই ভালো। ওএসডি থাকাকালীন যার অফিশিয়াল কাজ থাকবে না, তাকে তার যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, আমরা প্রতিটি সরকারি কর্মীকে কাজের টার্গেট বেঁধে দিতে চাই। এ ছাড়া কোয়ালিটি কাজ দিতে হবে। প্রয়োজনে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তাকে আরও সচেষ্ট হতে হবে। কিন্তু কোনো ফাঁকিবাজি প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

যুগান্তর : সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন ক্যাডারের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর অপরাধ পুরো প্রশাসন যন্ত্রকে নানারকম প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

প্রতিমন্ত্রী : বলতে দ্বিধা নেই, এ ধরনের কয়েকটি বিষয় আমাকেও ব্যথিত করেছে। তবে অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। এসব গর্হিত কাজ করে কেউ পার পাবে না। তিনি ডিসি, ইউএনও কিংবা যত বড় পদে থাকা কর্মকর্তা হোক না কেন। আমরা এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবে বরদাশত করব না। তবে মনে রাখবেন, পারিবারিক শিক্ষা একটি বড় বিষয়। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে চাকরি করা কিংবা সমাজ পরিচালনার নেতৃত্ব দেয়া যাবে না। যার মধ্যে ছোটবেলা থেকে ভালো মানুষ হওয়ার জন্য পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি আছে, নৈতিক শিক্ষা ও নৈতিক চর্চা নেই, তার পক্ষে আর যাই কিছু হোক ভালো কোনো কাজে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব হবে না। এ ছাড়া শুদ্ধাচার শুধু বলা কিংবা কাগুজে রিপোর্ট উপস্থাপনের বিষয় নয়, এটি যথাযথভাবে প্রতিপালন করে দেখাতে হবে।

যুগান্তর : সরকারি অফিসগুলোয় যেখানে দুর্নীতি করার সুযোগ আছে সেখানে বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা ফরম্যাটে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সঠিকভাবে অনুসন্ধান করলে এরকম বহু সরকারি কর্মীর বাস্তব আয়ের সঙ্গে তার জীবনযাপনের বিশাল ব্যয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। যাদের মধ্যে অনেকে মাঠ প্রশাসন থেকে একেবারে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। জনমনে এমন পারসেপশন এখন প্রতিষ্ঠিত। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী হবে?

প্রতিমন্ত্রী : দুর্নীতি নিয়ে কোনো ছাড় নেই। এ বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা রয়েছে। ইতিমধ্যে দেখেছেন, দলের মধ্যেও কীভাবে শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে। তাই আবারও বলছি, প্রশাসনের যে কোনো স্তরে শুধু দুর্নীতি নয়, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী মানুষকে হয়রানি করবেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এটি শুধু কথার কথা নয়, এসব বিষয়ে প্রতিনিয়ত তথ্য সংগ্রহ করার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের বিশ্বস্ত বিভিন্ন সোর্সের বরাতে আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর খোঁজখবর রাখছি। সাম্প্রতিক সময়ের পোস্টিং রেকর্ডগুলো বিশ্লেষণ করলে এর উত্তর খুঁজে পাবেন। যিনি দুর্নীতিমুক্ত এবং যার মধ্যে অগাধ দেশপ্রেম ও কমিটমেন্ট আছে, পাশাপাশি কাজ করার যোগ্যতা আছে, তাকে আমরা সঠিক স্থানে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছি। এ ছাড়া যার মধ্যে নেতৃত্ব দেয়ার মতো প্রয়োজনীয় গুণের অভাব আছে তাকে আমরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দিচ্ছি না এবং ভবিষ্যতে দেয়াও হবে না। এখানে তদবির কিংবা প্রেসার দিয়ে কোনো লাভ হবে না।

যুগান্তর : যেসব সরকারি কর্মকর্তা প্রাধিকার সুবিধায় বিনা সুদে সরকারি ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন তাদের মধ্যে অনেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার করছেন। এমনকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতার পুরোটাই বিধিবহির্ভূতভাবে তুলে নিচ্ছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

প্রতিমন্ত্রী : দেখুন, সরকার উপসচিব থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ ধরনের একটি বড় সুবিধা দিয়েছে বিশেষত দুটি কারণে। প্রথমত, সরকারি কর্মকর্তাদের একটা পর্যায়ে গিয়ে যেন ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার চিন্তা করতে না হয়। চাকরিতে থাকাবস্থায় কম সময়ের ব্যবধানে তারা প্রাইভেট কারের মালিক হয়ে যাবেন।

পাশাপাশি সরকারের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বিপুল ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা। সুতরাং কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অনৈতিক অভিযোগ আর শুনতে চাই না। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বেশকিছু সার্কুলার দেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অনুশাসনও রয়েছে। এ ছাড়া আমরা গাড়ি অপব্যবহারের বিষয়টি ক্লোজ মনিটরিং করছি।

যুগান্তর : শেষ প্রশ্ন- ভবিষ্যতে কেমন প্রশাসনের স্বপ্ন দেখেন?

প্রতিমন্ত্রী : শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না, সেটিকে ছুঁয়ে দেখতে হবে। অর্থাৎ বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য যা করণীয় তা করতেই হবে। আমি হয়তো আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরম স্নেহে ও অনুপ্রেরণায় সেরকম কিছু একটা করার চেষ্টা করছি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আজকের সিঙ্গাপুরের এগিয়ে যাওয়ার নেপথ্যের বিষয়টি সামনে আনেন। সেখানে জনগণের জীবনমান ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এক সময় কীরকম ছিল, আজ কোন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে ইত্যাদি। তিনি বলেন, আপনি জানেন, একজন ‘লি কুয়ান ইউ’ কীভাবে বদলে দিয়েছেন সিঙ্গাপুর। বদলে নেয়া এই মহানায়কের ডাকনাম লি। মাত্র অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি মাথাপিছু মাত্র ৫শ’ ডলারের আয়কে ১৯৯০ সালে নিয়ে গেছেন ১৪ হাজার ডলারে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু আয় ৫৩ হাজার ডলার। এটি ভাবা যায়? কিন্তু এটিই সত্য। এর পেছনে দেশটির প্রশাসনিক সেবার ব্যাপক অবদান রয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের প্রশাসনে যারা কাজ করছেন তারাও সবাই মিলে দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে আসুন।

আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। রেখে গেছেন তার সোনার বাংলা গড়ার সীমাহীন স্বপ্ন। তাই তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে সবাই একযোগে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করি। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বলব, শুধু সরকারি টাকায় উন্নত দেশ সফর করলে হবে না, নিজের দেশটাকেও সবার জন্য উন্নত করে গড়ে তুলতে হবে। কেননা, বর্তমান সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে তা আর কেউ করেনি। তাই জনকল্যাণে এর প্রতিদান অবশ্যই দিতে হবে।

সর্বোপরি জনসাধারণকেও বলব, সব কাজে শুধু সরকারি কর্মকর্তা কিংবা সরকারের জন্য বসে থাকবেন না। দেশকে সুন্দর করতে প্রত্যেকের নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। এই যেমন ধরুন, সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আসতে পারে। যথেষ্ট শঙ্কা আছে। তাই এখন থেকে আমরা সবাই যদি একযোগে কাজ করি, নিজের চারপাশটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে আমরা শুরুতেই ডেঙ্গুতে প্রতিরোধ করতে পারব। আসুন আমাদের ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাতকে ভালো কাজে, দেশের জন্য কাজে লাগাই।

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
স্বদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর