ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২২ ১৪২৬

  • || ১২ শা'বান ১৪৪১

৩২

করোনা প্রতিরোধে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা জরুরি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২০  

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মাহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যু কিংবা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমগুলো সার্বক্ষণিক করোনাভাইরাস সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য প্রচার করছে। মানুষের মুখে মুখেও এ নিয়েই সবসময় আলোচনা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন বৈশ্বিক সঙ্কটের সময় আতঙ্কের সঙ্গে মানসিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
তবে জানেন কি? মানসিক চাপে করোনাভাইরাসের পাশাপাশি অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। সুতরাং শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও এসময় মনযোগ দেয়া অতি জরুরি। নইলে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ বা মানসিক চাপে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। 

অন্যদিকে করোনাভাইরাস যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ছে তাই সামাজিক দূরত্ব, কোয়ারেন্টাইন অথবা আইসোলেশনে থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সর্বোত্তম পন্থা। তবে এগুলো পালন করার সময় নিম্নের কিছু মানসিক পরিস্থিতি সামনে আসতে পারে-

১। স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কিত উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা ভয়।

২। কর্মক্ষেত্রে যথাযথ সময় না দেয়ার কারণে আয় কমে যাওয়া অথবা চাকরি হারানোর ভীতি ভর করতে পারে। 

৩। নিত্য প্রয়োজনীয় এবং একান্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সঙ্কটে দুশ্চিন্তা ভর করতে পারে। 

৪। স্বাভাবিকভাবেই নিজের কাছের বা অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে মানসিকভাবে একাকীত্ববোধ আরো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৫। অসচেতন কোনো মানুষের করোনাভাইরাস সম্পর্কিত এলোমেলো কর্মকাণ্ড দেখে সচেতন ব্যক্তির মধ্যে বিরক্তি বা রাগ দুটোই জন্ম নিতে পারে।

৬। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দীর্ঘসময়ের জন্য নিঃসঙ্গ থাকাকালীন সময় হতাশা বা বিরক্তি সৃষ্টি হতে পারে।

৭। ভাইরাসের প্রকোপকালীন সার্বিক পরিস্থিতির উপর অনিশ্চয়তা এবং অবিশ্বাস তৈরি হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। 

৮। একঘেয়েমী পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য অনেকে হয়ত ড্রাগ বা অ্যালকোহল নেয়ার মতো স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর পথ বেছে নিতে পারে। 

৯। প্রতিদিনের রুটিন পরিবর্তনের কারণে ক্ষুধামন্দা এমন কি ঘুমের সময় এবং ধরণে পরিবর্তন আসতে পারে। 

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাঁচতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় উপরোক্ত সমস্যা এড়াতে কিছুউপায় অনুসরণ করা জরুরি-

১। করোনাভাইরাস সম্পর্কে সবসময় বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে সঠিক তথ্য জানতে হবে, যাতে কোনো ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি না হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব সহজেই বিভিন্ন প্রকার গুজব ছড়িয়ে পড়তে পারে। যা মানসিক স্বস্থ্যের পক্ষে মোটেও ভাল নয়। সেজন্য সঠিক তথ্য জানুন এবং নিজেকে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখুন।

২। মানসিকভাবে অস্থিরতা অথবা উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো খবর দেখা বা শোনা থেকে বিরত থাকুন। নিজেকে এবং কাছের মানুষদের করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখার জন্য স্বচ্ছ এবং বাস্তবধর্মী তথ্য সংগ্রহ করবেন। 

৩। করোনাভাইরাস সম্পর্কে কোনো তথ্য শেয়ার করতে হলে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে করবেন। এর ফলে আপনার মাধ্যমে কোনো বিভ্রান্তি ছড়াবে না।

৪। শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা মানেই এখন সমাজ কিংবা বহির বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সাথে মানসিক পরিস্থিতি শেয়ার করতে পারেন তাতে উদ্বেগ বা চাপ কমবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আপনার কোনো পরামর্শ যেটি সবার জন্য কার্যকরী তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন। 

৫। করোনাভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্বের চিকিৎসক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে ব্যক্তি মানুষ হিসেবে একজনের ভীতি ও উদ্বেগের মাত্রা বেশি হতে পারে যা কোনোভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যমে ছড়ানো উচিত নয়। কারণ এতে একজনের চিন্তার কারণে অন্যদেরও হতাশার সৃষ্টি হতে পারে।

৬। করোনাভাইরাস থেকে নিরাপত্তার জন্য সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার সময় শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন, রুটিন অনুযায়ী ঘুমান এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন।

৭। সর্বোপরি সুস্থ থাকতে নিয়ম মেনে চলুন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন। অতিমাত্রায় ভীতি কিংবা উদ্বেগ প্রশ্রয় দিবেন না।  

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
দৈনিক কিশোরগঞ্জ
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর