ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিব ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বুধবার   ০৩ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭

  • || ১১ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক কিশোরগঞ্জ
৬৬

করোনা আতঙ্কের মাঝেও বিয়ে, নাজেহাল হতে হলো চিকিৎসককে

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২০  

বগুড়ার সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান (৩২) পেশায় একজন চিকিৎসক। পাঁচ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন তিনি, স্ত্রী পেশায় নার্স। গত শুক্রবার দুটি মাইক্রোবাসে করে লোকজন নিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আসেন দ্বিতীয় বিয়ে করতে। উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ফাঁড়ি রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

তবে এই চিকিৎসক যে আগেও বিয়ে করেছেন—এমন তথ্য জানা ছিল না হবু শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। আবার স্বামী যে দ্বিতীয় বিয়ে করছেন সেটিও জানতেন না প্রথম স্ত্রী।

বিয়ের খবর পাওয়ার পর ভৈরবে ছুটে আসেন প্রথম স্ত্রী। তিনি সোজা গিয়ে উপস্থিত হন বিয়েবাড়িতে। সবকিছু জানার পর হবু শ্বশুবাড়ির লোকজন মশিউরকে উত্তমমধ্যম দিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানা। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিয়ে করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান তিনি। পরে বর ও কনেপক্ষকে ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়ার সোনাতলা গ্রামে বাড়ি হলেও মশিউর বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। প্রথম বিয়ে করেন ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে। স্ত্রী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স। শুক্রবার দ্বিতীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলার সময় প্রথম স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হওয়ার কারণে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। যেহেতু করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে এবং অধিক জনসমাগম হয়—এমন ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনেও একই আদেশের আওতায় রয়েছে, তাই বিয়ের আয়োজন করে বর ও কনেপক্ষ উভয়ই আইন ভঙ্গ করে। এই কারণে বরের মাকে ২০ হাজার এবং কনের বাবাকে ২০ হাজার টাকা দণ্ড দেওয়া হয়।

কনের বাবা বলেন, ‘ছেলের ঢাকার বাসায় দুবার গেছি। সবকিছু দেখে ছেলে পছন্দ হয়েছে। কথা ছিল ছেলেপক্ষ আসবে আমাদের বাড়িতে। আসার পর যদি পছন্দ হয়, তাহলে ওই দিন বিয়ে হয়ে যাবে। শুক্রবার ছেলেপক্ষ এসে আমাদের পছন্দ করে এবং বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমরাও রাজি হয়ে যাই। আগের বিয়ের তথ্য আমাদের কাছে গোপন করা হয়েছে।’

আইন অমান্য করে বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কনের বাবা বলেন, ‘করোনার কারণে ছোট করে আয়োজন করা হয়েছিল।’

এদিকে মশিউরের প্রথম স্ত্রী বলেন, ‘ছয় মাস ধরে মশিউর আমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখলেও বাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। বিয়ের বিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। পরে শ্বশুরবাড়ির একজনের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে এখানে এসেছি।’

এদিকে করোনার সময় সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং চিকিৎসাসেবা বাদ দিয়ে গোপনে বিয়ে করতে আসা ঠিক হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মশিউর কোনো উত্তর দেননি। মাথা নিচু করে থাকেন। দ্বিতীয় বিয়ে করতে আসার আগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেননি মশিউর।

বিষয়টি নিয়ে ভৈরবের ইউএনও লুবনা ফারজানা বলেন, ‘দেশের দুর্যোগপূর্ণ সময়ে একজন চিকিৎসকের এমন ভাবনা হতাশ করেছে। তবে এই ক্ষেত্রে অপরাধী দুই পক্ষই। এ কারণে দুই পক্ষকেই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।’